সাহারা খাতুনের আসনে নির্বাচন করতে চান ভাগনে মজিবুর রহমান

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২০

ঢাকা-১৮ আসনে গত ১২ বছর ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তিনি জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ জুলাই রাতে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর এ আসনে নৌকার হাল ধরতে সক্রিয় আছেন তার ভাগনে মজিবুর রহমান। ইতিমধ্যে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়ন পত্র বিতরণের প্রথম দিন সোমবার (১৭ আগস্ট) ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে মজিবুর রহমান মনোনয়ন ফরম কিনেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ভাগনে মজিবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও। তিনি বলেছেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি খালার (সাহারা খাতুনের) আসনে নির্বাচন করব।’

এদিকে সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম তোলার হিড়িক পড়েছে। গত পাঁচ দিনে এ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে ৪৩ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

জানা যায়, প্রয়াত সাহারা খাতুনের ভাগনে মজিবুর রহমান ছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান আলী মন্ডল, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া উত্তর খান থানাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেক থানা এবং ওয়ার্ডের নেতারাসহ এ আসন থেকে ৪৩ জন দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, সদ্য মারা যাওয়া সাংসদ সাহারা খাতুন ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা। আর দীর্ঘদিন ধরে তার একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন মোঃ মজিবুর রহমান। যিনি সর্বমহলে সাহারা খাতুনের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন।

এদিকে ঢাকা ১৮ আসনের মাঠের রাজনীতিতেও মজিবুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন বলে সরজমিনে জানা গেছে। খিলক্ষেতসহ ঢাকা ১৮ আসনের প্রতিটি এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকও বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য, সাহারা খাতুন একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা নিয়ে অসুস্থ থাকায় তার সমস্ত কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতেন মজিবুর রহমান। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিটি মিটিং মিছিলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাহারা খাতুনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে অসহায় মানুষের বিপদ-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করতেন। সবশেষ করোনাকালে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন এলাকায় সাহারা খাতুনের পক্ষে নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন তিনি।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাহারা খাতুনের পাশে থেকেছেন মজিবুর রহমান। ব্যক্তিজীবনে সাহারা খাতুন অবিবাহিত থাকলেও ভাগ্নে মজিবুর রহমানকে সবসময় ছেলের মতো করে আগলে রাখতেন। ফলে তার মতো একজন দক্ষ, সৎ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে এ আসনের মানুষ উপকৃত হবে।

ব্যবসায়ী বাবার সন্তান মুজিবর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই খালা সাহারা খাতুনের হাত ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। বর্তমানে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং উত্তরায় ঢাকা নর্দান সিটি কলেজের গভর্নং বাডির (পরিচালনা পরিষদ) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া একজন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি রয়েছে।

জানতে চাইলে মজিবুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, খালা (সাহারা খাতুন) তার জীবনকে আওয়ামী লীগের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত ছিলেন। যত দিন বেঁচেছিলেন তত দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন, সাহারা খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার আমাকে সুযোগ দিলে প্রথমেই খালার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করব। সেই সঙ্গে তার আদর্শ ও সততা বুকে ধারণ করে ঢাকা-১৮ আসনের সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করে যাব।