অনেক সংগ্রাম করে বলিউডে সফল হন অর্চনা

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২০

বড় চরিত্রে দেখা না গেলেও বলিউড দর্শকদের পরিচিত মুখ অর্চনা পুরন সিং। বিশেষ করে কমেডিতে তার জুড়ি নেই। টিভি সিরিজ বা রিয়্যালিটি শো’তেও তার দুর্দান্ত উপস্থিতি। অভিনেত্রী হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার তার জন্য তত সহজ ছিল না।

ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মাত্র ১০ সেকেন্ডের রোলে অভিনয় করে। সিনেমায় ডনের বান্ধবী, খলনায়িকা, আইটেম নাম্বারের শিল্পী থেকে শুরু করে টেলিভিশন মেগার ‘লাফটার কুইন’। সব ভূমিকাতেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি।

১৯৬২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অর্চনার জন্ম দেরাদুনে। বাবা ছিলেন আইনজীবী। দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজে পড়ার সময়েই তিনি ঠিক করে ফেলেন পরে মডেলিং করবেন।

মডেলিং করতে করতেই ১৯৮২ সালের ‘নিকাহ’ ছবিতে গানের দৃশ্যে দশ সেকেন্ডের জন্য সেলস গার্লের ভূমিকায় সুযোগ মেলে। তবে নায়িকা চরিত্রে প্রথম ছবি ‘জালওয়া’, বিপরীতে ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এই ছবির পরও অর্চনা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রত্যাশিত সুযোগ পাননি। মূলত বি বা সি গ্রেড সিনেমাতেই দেখা যাচ্ছিল তাকে। পরে সিদ্ধান্ত নেন সাহসী ভূমিকায় অভিনয় চালিয়ে যাবেন, তবে ছবি ব্যানারের হতে হবে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে ক্যারিয়ার শুরুর আগেই বড় আঘাত পান। ভেঙে যায় বিবাহিত জীবন। সেই সম্পর্ক এতটাই তিক্ত হয়ে পড়েছিল যে, পুরুষদের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে যখন জীবনে পরমিত শেঠি আসেন, প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলতে অনেক সময় নেন অর্চনা।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হলেও বিয়ে করতে চাননি। লিভ ইনে স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন। এ সম্পর্ক নিয়ে বহু চর্চা হয়েছিল। এ ছাড়া অর্চনা ছিলেন পরমিতের চেয়ে সাত বছরের বড়।

১৯৯২ সালে টেলিভিশনে একটি বড় কাজের সুযোগ পান পরমিত। সে দিনই তিনি অর্চনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হন অর্চনা। সে রাতিই পুরোহিত ডেকে দুই বন্ধুর উপস্থিতিতে বাড়িতেই বিয়ে করেন তারা। বর্তমানে তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান।

সাহসী দৃশ্যের অভিনেত্রী পরিচিতি থেকে বের হতে চাইছিলেন অর্চনা। ১৯৯৪ সালে ‘রাত কি গুনাহ’- ছবিতে অভিনয় করেন শেখর সুমনের বিপরীতে। এই বি গ্রেড ছবিতে অভিনয় করে অনুশোচনা হয় অর্চনার। ঠিক করেন এবার কাজ করবেন ছোট পর্দায়। ওয়াহ ক্যায়া সিন হ্যায়, শ্রীমান শ্রীমতি, জুনুন, কর্মচন্দ, মাই নেম ইজ লক্ষণের মতো সিরিয়ালে অর্চনা ছিলেন মূল আকর্ষণ। বেশ কিছু রিয়্যালিটি শো-এ তিনি অংশ নেন সঞ্চালক ও বিচারক হিসেবে। কোথাও আবার নিজেই ছিলেন অংশগ্রহণকারী।

১৯৯৬ সালে ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ছবিতে কারিশমা কাপুরের সৎ মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন অর্চনা। সেখানে খলনায়িকা হিসেবে নজর কাড়েন তিনি। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই ছবিতে অভিনয় করেন অর্চনা। কিন্তু একবারের জন্যও তা বোঝা যায়নি ছবিতে।

দেড় দশক অভিনয় করেও বলিউডের প্রথম সারিতে জায়গা পাননি অর্চনা। সেই সুযোগ পান ১৯৯৮ সালে। শিক্ষিকা মিস ব্র্যগেঞ্জা চরিত্রে অভিনয় করেন করণ জোহরের ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে।

এর পর মহাব্বতেন, ওয়ে লাকি! লাকি ওয়ে!, মেরে বাপ পেহলে আপ, মাস্তির মতো ছবিতে কমেডি রোলে জনপ্রিয়তা পান। সেই সূত্রেই ছোট পর্দার বিভিন্ন স্ট্যান্ড আপ কমেডি শোয়ের অংশ হয়ে ওঠেন। অর্চনা এখন বিশ্বাস করেন, সিনেমার তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি পেয়েছেন ছোট পর্দায়। শুধু সিনেমায় অভিনয় করে গেলে হয়তো আজ হারিয়েই যেতেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

অর্চনা অভিনীত অন্য উল্লেখযোগ্য ছবি হলো লড়াই, অগ্নিপথ, সওদাগর, শোলা আউর শবনম, আশিক আওয়ারা, ঝঙ্কার বিটস, কৃষ, কিক, বোল বচ্চন, গুড লাক ও হাউসফুল ফোর।